ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে শুরু হয়েছে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। অন্ধ্রের মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মাঝামাঝি কাঁকিনাড়া সংলগ্ন এলাকায় রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আছড়ে পড়বে তীব্র ঘূর্ণিঝড়টি। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। উপকূলবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, খুলে দেওয়া হয়েছে একাধিক ত্রাণ শিবির। কাঁকিনাড়া ও উপ্পাডা সমুদ্রসৈকতের রাস্তাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মৌসম ভবন সূত্রে জানা গেছে, অন্ধ্রপ্রদেশের ৩৯টি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চেন্নাই, তিরুভাল্লুর, কাঞ্চিপুরম, চেঙ্গালপাট্টু, রানিপেটসহ তামিলনাড়ুর বহু জেলায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। চেন্নাই প্রশাসন কমলা সতর্কতা জারি করেছে, এবং সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে; পাম্প বসিয়ে জল নিষ্কাশনের কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
ঘূর্ণিঝড়ের জেরে বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর থেকে ৩২টি উড়ান বাতিল হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৩২টি ট্রেনও। টাটানগর-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে, ভুবনেশ্বর-জগদলপুর ও রাউরকেলা-জগদলপুর এক্সপ্রেসের গতিপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলের আটটি জেলায়ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। গঞ্জাম জেলায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই চলছে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। ইতিমধ্যে সেখানে দুই হাজারেরও বেশি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে এবং প্রায় ১১ হাজার ৪০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
মোন্থার প্রভাবে কেবল দক্ষিণ ভারত নয়, উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেও সক্রিয় হয়েছে মৌসুমি অস্থিরতা। রাজস্থানের উদয়পুর ও কোটায় ভারী বৃষ্টি চলছে। এদিকে উত্তরবঙ্গেও জারি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।
বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শুক্রবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও পার্বত্য জেলাগুলিতে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের তমলুকে ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে কালীপুজোর মেলার বাঁশের কাঠামো ভেঙে পড়ে বিপত্তি ঘটেছে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলোর সাজও। তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় যান চলাচল।
সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ এখন দক্ষিণ ভারতজুড়ে অশনিসঙ্কেত। প্রশাসনের তরফে সর্বত্র জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা, আর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে—আগামী ৪৮ ঘণ্টা অতি গুরুত্বপূর্ণ।