নেপালে গণবিদ্রোহে ইস্তফা প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি, বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ দেশ
নেপাল অগ্নিগর্ভ গণবিদ্রোহে কাঁপছে। প্রবল জনচাপের মুখে অবশেষে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার গণআন্দোলনের আদলে নেপালেও ওলি সরকারের পতন হলো।
সংসদ ভবনে জনতার ঢল
প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার আগে থেকেই দেশজুড়ে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছিল। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর চালায়। বিক্ষোভের চাপে উপপ্রধানমন্ত্রীসহ একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এমনকি উপপ্রধানমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের ধাওয়ার মুখে পালাতে হয়।
মন্ত্রীদের বাড়ি-ঘরে হামলা
মঙ্গলবার একাধিক মন্ত্রীর বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের ব্যক্তিগত বাড়ি দখল করে নেয় আন্দোলনকারীরা। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বিশ্ব পৌডেল, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহালের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চলে।
মৃত্যুমিছিল, আহত শতাধিক
কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল ছিল নেপাল। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। গুলি, লাঠিচার্জ ও কাঁদানো গ্যাসে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। সংখ্যাটি আরও বাড়ছে।
স্লোগান: “ওলি চোর, দেশ ছাড়”
সংসদ ভবনে আগুন দেওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের মুখে স্লোগান শোনা যায়— “ওলি চোর, দেশ ছাড়।” পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল।
সেনা প্রধানের পরামর্শে ইস্তফা
অবশেষে সেনা প্রধানের সরাসরি পরামর্শে পদত্যাগ করেন ওলি। সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ।
ক্ষোভের পেছনে কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্থিরতা হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব, দুর্নীতি ও শাসক শ্রেণির প্রতি ক্ষোভ জমে ছিল। কর্মসংস্থানের অভাব ও জীবনের মান নিম্নমুখী হওয়ায় জনঅসন্তোষ বেড়েই চলছিল। এর মধ্যেই সরকারের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে বিস্ফোরণমুখর করে তোলে।
সম্প্রতি নেপালের শেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্র বিক্রমের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও নতুন করে জোর পায়। কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার দাবিতেও আন্দোলন চলছিল। সেই আগুনই এবার গণবিদ্রোহের রূপ নিল।